বগুড়ায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও মদপানের পর এক তরুণী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বগুড়া সদর উপজেলার ফুলবাড়ী দক্ষিণ হাজীপাড়া এলাকার কাওছার (১৯), ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার বাঁধন (১৯) এবং উত্তর কাটনারপাড়া এলাকার রকি (১৯)।
আজ সোমবার সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকদের পূর্বপরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে ওই তরুণী শহরের পুলিশ প্লাজার সপ্তম তলায় অবস্থিত ‘লাক জোন’ নামের একটি দোকানে যান। সেখানে আগে থেকেই কাওছার, বাঁধন, সাদিকসহ আরও একজন অবস্থান করছিলেন।
সেখানে আড্ডার একপর্যায়ে তাঁরা মদ্যপানের পরিকল্পনা করেন এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের একটি হোটেল থেকে মদ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে রাত সোয়া ১০টার দিকে তাঁরা সবাই মিলে ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন শ্মশানঘাট এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে যান। সেখানে রকি নামের আরও এক যুবক তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, ওই নির্মাণাধীন ভবনে মদ্যপানের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পাশবিক নির্যাতন শেষে রাত গভীর হলে অভিযুক্ত বাঁধন তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
সে সময় সুযোগ বুঝে ওই তরুণী চিৎকার শুরু করেন এবং স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তরুণীর চিৎকার শুনে বিপদের আশঙ্কায় বাঁধন তাঁকে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা টের পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করেন এবং রাতেই তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।