চোরাইপথে অনুপ্রবেশের কারণে দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে মসলার দরে পতন ঘটছে। ফলে গত দুই সপ্তাহে কোনো কোনো মসলার দাম কমেছে কেজিতে ১০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।তবে এ মূল্যহ্রাসের কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমা নয়, বরং অবৈধ পথে আসা চোরাই মসলার অবাধ অনুপ্রবেশ।
মসলার এ দরপতন ক্রেতাদের স্বস্তি দিলেও বেকায়দায় আছেন আমদানিকারকরা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা এসব পণ্যের কারণে বৈধ পথে আমদানি করা মসলা বিক্রি করতে গিয়ে চরম লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ বাজার ‘খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র সহসম্পাদক রেজাউল করিম আজাদ বলেন, পবিত্র কোরবানি সামনে রেখে খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকরা পর্যাপ্ত মসলা আমদানি করেছেন।কোরবানিতে মসলার কোনো সংকট হবে না। সরবরাহ চেইন ঠিক থাকায় সব ধরনের মসলার দাম নিম্নমুখী।
গত কয়েকদিন মসলার রকম ভেদে কেজিপ্রতি দাম কমেছে ১০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। তবে খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকদের দাবি, অবৈধ পথে চাহিদার অতিরিক্ত মসলা দেশে প্রবেশ করছে।চোরাই পথে আসা শুল্ক ছাড়া আসায় আমদানিকারকদের চেয়ে অনেক কম দামে বাজারে পণ্য ছাড়তে পারছে চোরাকারবারিরা। ফলে আমদানি খরচ চেয়েও কম দামে বাজারে চোরাই পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মসলার বাজার নিম্নমুখী। এতে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন বৈধ আমদানিকারকরা।
জানা গেছে, দেশের বৃহৎ পাইকার বাজার খাতুনগঞ্জে এবার ‘অনানুষ্ঠানিক পথে’ প্রবেশ করেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মসলা।ফলে বৈধ পথে কোনো কোনো মসলার আমদানি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমলেও দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ মসলা চোরাই পথে এসেছে বাজারে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা এ চোরাই পণ্যের কারণে গত দুই সপ্তাহে পাইকারি বাজারে এলাচ, লবঙ্গ ও জিরাসহ অন্য মসলার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে জিরা ৫৩০, লবঙ্গ ১ হাজার ৩০০ এবং গোলমরিচ ১ হাজার ১০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। গত দুই মাসের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, কারসাজি সিন্ডিকেটের কারণে মানভেদে ২ হাজার টাকার এলাচ লাফিয়ে লাফিয়ে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছিল। একইভাবে ৬০০ টাকার জিরা ৮৫০ এবং লবঙ্গের দাম কেজিতে ১৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের চলতি অর্থবছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও নানান কারণে গত বছরের তুলনায় প্রধান চারটি মসলা (জিরা, লবঙ্গ, এলাচ ও জায়ফল) আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। তবে সরকারি হিসাবে আমদানির ঘাটতি থাকলেও খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে পণ্যের কোনো অভাব নেই।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে মসলাজাতীয় পণ্যের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে ৩৫ লাখ টন। এরই মধ্যে ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ মসলা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। দেশের ৫০ ধরনের মসলার চাহিদা থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয় মাত্র সাত ধরনের। ফলে প্রতি বছর ৪৩ ধরনের মসলা আমদানি করতে হয়। মসলা আমদানিতে প্রতি বছর ব্যয় হয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো। তবে মসলার একটি বড় অংশও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অনানুষ্ঠানিক পথে দেশের বাজারে প্রবেশ করে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন