লাল-সবুজের পতাকা হাতে বাঙালি সংস্কৃতির পরিপূরক স্লোগানে প্রকম্পিত করে ১৭ মে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’। হাজারো প্রবাসীর সাথে এ প্যারেডে অংশ নিয়ে কংগ্রেস, স্টেট, সিটি কাউন্সিলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও বহুজাতিক এ সমাজে বাংলাদেশীদের উত্থানের জয়গান গাইলেন।
অতিথির মধ্যে ছিলেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং, কংগ্রেসম্যান টম সোউজি, স্টেট সিনেটর জেসিকা গঞ্জালেজ, স্টেট অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যাটালিনা ক্রুজ, সিটি কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান। আসন্ন নির্বাচনে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে থাকা শামসুল হক ছিলেন সমর্থকদের নিয়ে ভোট প্রার্থনার পোস্টার-সহ।
প্যারেডের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এ সময় জানান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী-আঞ্চলিক পর্যায়ের ১২০টিরও অধিক সংগঠন প্যারেডে অংশ নেয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশী অফিসাররা ছিলেন সকলের মধ্যমণি। আমেরিকায় দক্ষিণ এশিয়ানদের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ব্যস্ততম ৬৯ স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে এ প্যারেড যায় ৩৭ এভিনিউ দিয়ে ৮৭ স্ট্রিটে। যান চলাচল বন্ধ করে দীর্ঘ এ পথের দু’পাশে ছিলেন পুলিশ অফিসারেরা।
সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত প্যারেডে বাংলাদেশের বেশ ক’জন জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী কণ্ঠশিল্পীরাও ফ্লটে ছিলেন। প্রবাসের জনপ্রিয় কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা নেচে-গেয়ে পুরো প্যারেড মাতিয়ে রেখেছিলেন। এ সময় দু’পাশের ভিনদেশীরাও বিমুগ্ধচিত্তে অবলোকন করেন বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য। গত বছর অনুুষ্ঠিত প্যারেডে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক এডামস অংশ নিলেও এবার মেয়র জোহরান মামদানিকে না পেয়ে প্রবাসীরা হতাশ। কারণ, মামদানির বিজয়ে বাংলাদেশীরাও ছিলেন একটি ফেক্টর।
এবারের প্যারেডে গ্র্যান্ড মার্শাল ছিলেন কম্যুনিটি লিডার এম আজিজ এবং এম এম শাহীন। নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিসের প্রাঙ্গন থেকে ১৯৮৭ সালে সর্বপ্রথম প্যারেডের আয়োজক ছিল ‘রুপসী বাংলা টিভি’। পরবর্তীতে বিলুপ্ত হওয়া সেই টিভির পরিচালক আনিসুজ্জামান খোকন এবার প্যারেডে অংশ নেন ৩০০ সিসির মোটর সাইকেল চালিয়ে।
এরপর ২০০০ সালে বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে এস্টোরিয়া পার্কে অনুষ্ঠিত প্যারেডের অন্যতম সংগঠক ফখরুল আলম এসেছিলেন অতিথি বক্তা হিসেবে। প্যারেড আয়োজনে অর্থের যোগানদাতাগনের মধ্যে আরো ছিলেন আব্দুল কাদের ভূইয়া শিশির, নূরুল আজিম, শাহনেওয়াজ, মইনুজ্জামান, মইনুল ইসলাম প্রমুখ।
প্যারেড শুরুর আগে অনুষ্ঠিত শুভেচ্ছা বক্তব্যের সমন্বয় করেন গিয়াস আহমেদ এবং ফাহাদ সোলায়মান। এই প্যারেডের মধ্যদিয়ে বহুজাতিক সমাজে বাংলাদেশিদের অবস্থান আরো জোরালোভাবে দৃশ্যমান করার সংকল্প ছিল। যদিও নিউইয়র্ক অঞ্চলে সর্ববৃহৎ ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’র কর্মকর্তারা অনুপস্থিত ছিলেন এবং জালালাবাদ অঞ্চলের প্রবাসীদেরকে অংশগ্রহণ ছিল না বলে সচেতন প্রবাসীরা জানান। এরফলে এই প্যারেড আয়োজনের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও প্রবাসীগণের অনেকে মন্তব্য করেন।
বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন