1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
সরকারি দাম ৩৬ টাকা, হাটে মিলছে ২৪-২৮ - Pundro TV
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন



সরকারি দাম ৩৬ টাকা, হাটে মিলছে ২৪-২৮

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পুরোদমে শুরু হয়েছে ধান কাটা। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ থাকলেও কৃষকের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বাড়লেও বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় শুরুতেই লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও স্থানীয় বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২৪ থেকে ২৮ টাকায়। এর ফলে নতুন ধান ঘরে তুললেও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ার কারণে এবার ধান চাষে খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। সেই অনুপাতে বাড়েনি বাজারমূল্য। বরং মৌসুমের শুরুতেই ধানের দরপতনে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
আলাদীপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর সূর্যুপাড়া গ্রামের কৃষক সুপল মার্ডী চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছেন।

প্রতি বিঘায় বীজ, জমি প্রস্তুত, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক, ধান কাটাসহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৪০০ টাকা। বর্গা যোগ করে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা। তাঁর হিসাব, ব্রি-২৮ জাতের ধান থেকে বিঘাপ্রতি ৩৫ মণ ফলন পেলেও বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে খরচই উঠছে না। প্রতি বিঘায় ২ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। এখন ঋণ শোধ নিয়েই চিন্তায় আছেন তিনি। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আলাদীপুরের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক, কোবাদ হোসেন ও মাবুদ মৌলভী।

বারাইপাড়া এলাকার কৃষক ইউনুস আলী ১১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। কিন্তু এবার প্রতি বিঘায় গত বছররে তুলনায় ৩-৪ মণ ধান কম উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে দামও কম। এতে কৃষকরা দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘খরচ বাড়ছে, ফলন কমছে, আবার বাজারেও দাম নাই। কৃষক টিকবে কীভাবে?’
বাজারে ধানের দাম না বাড়ার পেছনে বড় কারণ হচ্ছে চালকল মালিকদের অনাগ্রহ। অধিকাংশ মালিকের গুদামে এখনও আমদানি করা চালের মজুত রয়েছে। ফলে নতুন ধান কেনায় তাদের আগ্রহ কম।
ফুলবাড়ীর বাসুদবেপুর এলাকার ধান ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন জানান, বর্তমানে মোটা ধান প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। ব্রি-২৮ জাতের ধান ১ হাজার ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা, চিকন মিনিকেট ২ হাজার ১০০ টাকা এবং ৯০ জিরা জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। তিনি বলেন, মোকাম থেকে কম দামে ধান নেয়। তাই স্থানীয় বাজারেও দাম বাড়ছে না। আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমতে পারে।

এদিকে ফুলবাড়ীর রাঙামাটি এলাকায় অবস্থতি প্রাণ গ্রুপের বঙ্গ মিলার্স লিমিটেড এখনও কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ শুরু করেনি। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ধান কেনা শুরু করলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ত এবং দাম কিছুটা বাড়ত। ভুক্তভোগী কৃষকদের ভাষ্য, ‘প্রাণ কোম্পানি ধান কিনলে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হতো। কৃষকও ভালো দাম পেত।’ তবে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ কিংবা তার পরের সপ্তাহে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ফুলবাড়ী উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮৬ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৭৬০ টন।
কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, ‘এবার প্রতি বিঘায় ৩৪ থেকে ৩৫ মণ ফলন হয়েছে। ধান কাটতে স্থানীয় ৩৫টি ও বাইরে থেকে আসা ১৫০টি হারভেস্টার মেশিন কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কৃষকরা দ্রুত ধান ঘরে তুলছেন।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST