ভোলার চরফ্যাশনে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে ‘বলাৎকারের’ অপবাদ দিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও সর্বস্তরের তাওহীদি জনতা। বক্তারা এই ঘটনাকে আলেম সমাজের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে অতি দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাতে মাওলানা আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র নিগ্রহের অভিযোগ তোলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয় এবং একটি ‘মব’ বা গণ-উন্মাদনা তৈরি করা হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তাঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে চরমভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে চরফ্যাশন সদর এলাকায় সর্বস্তরের জনতার ব্যানারে এক সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম এবং সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে ওলামায়ে কেরাম বলেন, কোনো প্রকার তথ্য-প্রমাণ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই একজন ধর্মীয় শিক্ষককে জনসম্মুখে এভাবে অপদস্ত করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, একটি বিশেষ কুচক্রী মহল আলেম-ওলামাদের সামাজিকভাবে হেয় করতে এবং শান্ত এলাকাকে অশান্ত করার হীন উদ্দেশ্যে এই নাটক সাজিয়েছে।বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, যদি কেউ অপরাধ করে থাকে তবে দেশে প্রচলিত আইন ও বিচার ব্যবস্থা আছে; কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মব জাস্টিসের নামে সম্মানহানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশ থেকে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি স্পর্শকাতর ইস্যুতে সাধারণ মানুষকে গুজব থেকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।