ছয় দিনের কড়া রোদে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি অনেকটা কমেছে। বর্তমানে হাওরের চেয়ে নদীর পানির উচ্চতা আড়াই থেকে তিন ফুট নিচে রয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকরা মনে করছেন, হাওরের পানি কমানো গেলে ডুবে যাওয়া ধান কিছুটা হলেও কেটে আনতে পারবেন তারা। তাদের দাবি, হাওরের বাঁধ কেটে পানি নদীতে দিতে পারলে উপকৃত হবেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে দেখার হাওরের (সুনামগঞ্জের চার উপজেলার কৃষকেরা জমি চাষ করেন যে হাওরে) পানি নামার পথ মহাসিং নদীতে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর পানি হাওরের পানির চেয় কমপক্ষে দুই হাত নিচে রয়েছে। খেয়া নৌকায় মানুষ পারাপার করছিলেন কাদিরপুর গ্রামের রফিক মিয়া।
তিনি নৌকায় বসে পারের একটি অংশ বৈঠা দিয়ে চিহ্নিত করে দেখিয়ে বলেন, ছয় দিন আগে এখানে দুই-তিন হাত ওপরে পানি ছিল, এখন নিচে নেমেছে। হাওরের পানি সেভাবে কমেনি। আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন, ‘যে রইদ (রোদ) দের, হাওরের পানি কমাইয়া (কমিয়ে) দিলে, মাইনসে (কৃষকে) টাইন্না-টুইন্না (টেনে-টুনে) কিছু ধান আনতো পারলোনে।’
শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা গ্রামের কৃষক কে এম ফখরুল ইসলাম দেখার হাওরে জমি চাষ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ পাকা জমিই পানির নিচে ডুবেছে। পানির নিচে থেকে গেল কয়েক দিনে ধান নষ্ট হবে, তবে হাওরের পানি কিছুটা কমানো গেলে কিছু ধান তুলে আনা যেত। এখন হাওরে সাঁতার পানি, বুক থেকে কোমরসমান পানি হলেও হাওরপারের দক্ষিণের আস্তমা, আসামপুর, পাগলা, মদনপুর, গোবিন্দপুর, কাইক্কারপাড় এলাকার কৃষকরা কিছু ধান তুলে আনবেন।
একইভাবে রৌউনি, চিকারকান্দিসহ উত্তরাঞ্চলের অনেক গ্রামের কৃষকরা পানি নিচ থেকে ধান তুলে আনতে পারবেন।’ তিনি জানালেন, দেখার হাওরের তাদের অংশের পানির চেয়ে মহাসিং নদীর পানির উচ্চতা এক হাতের চেয়েও কম।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলামও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সকলে একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নিলে, আগের মতো বাঁধ কেটে পানি ছাড়লে আমরা উতারিয়া বাঁধে যেতে পারি।’
শাল্লা ইউপি চেয়ারম্যান ছত্তার মিয়া বলেন, ভেড়াডহরের হাওর থেকে পাশের দাড়াইন নদীর পানি আড়াই ফুট নিচে। সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে হাওরের কৃষকরা বলেছেন, হাওরপারের কান্দিগাঁওয়ের পাশের নৈল্লার খালের বাঁধ এবং হাওরের মাঝখানে থাকা চ্যাপটার হাওরের বাঁধ কেটে দিলে ডুবে থাকা পাকা ধানের দুই থেকে আড়াই শ হেক্টর কেটে আনা সম্ভব। অর্থাৎ ২৫ ভাগ ক্ষতি কমাতে পারবেন কৃষকরা।
দুই-তিন দিন সময় পেলেই সবাই কিছু ধান তুলে আনবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, ‘আস্তমার কৃষকরা আমাকেও বলেছেন, উতারিয়া বাঁধ কেটে কিছু পানি নামানো গেলে তাদের বেশ উপকার হবে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কাটলে উপকার হবে।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, হাওরে অনেকের খড় আছে, এজন্য কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে। বিকেলে সরেজমিনে দেখে সবার মতামতে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বাঁধ কেটে হাওরের পানি নদীতে বের করে দেওয়ার মতো হলে এবং কৃষকরা যদি উপকৃত হন এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।