1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
চিলমারীর কৃষিতে তামাকচাষ: রাসায়নিকের দাপটে মাটির প্রাণ হারানোর শঙ্কা - Pundro TV
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন



চিলমারীর কৃষিতে তামাকচাষ: রাসায়নিকের দাপটে মাটির প্রাণ হারানোর শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারীর মূল ভূখণ্ডের আবাদি জমিতে এবার শুরু হয়েছে তামাক চাষ। অতিরিক্ত লাভের আশায় কৃষকরা তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। তবে ভয়াবহ পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও তামাক চাষে ব্যবহৃত অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের কারণে উর্বর মাটি এখন তার প্রাণ হারানোর প্রবল শঙ্কা রয়েছে।

​পরিবেশবাদীদের দাবি, এখনই তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগ না করলে চিলমারীর সমৃদ্ধ কৃষি ঐতিহ্য অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনুর্বর ও তপ্ত ধরিত্রী রেখে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে এই তামাক চাষের মাধ্যমে।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবার উপজেলার মাত্র ৬ বিঘা জমিতে তামাক চাষ হয়েছে৷

​সরেজমিনে চিলমারীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, স্বল্প পরিমাণে তামাক চাষ শুরু করেছে স্থানীয় কৃষকরা। এসময় দেখা যায় তামাকের জমিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে এই চারা বড় করতে যে পরিমাণ ইউরিয়া, ডিএপি ও কড়া মাত্রার বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে, তা মাটির স্বাভাবিক অম্লতা ও ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট করে দিচ্ছে।

কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, শতকে টিএসপি সার ব্যবহার হয় ৬ কেজি, ইউরিয়া ২ কেজি, পটাশ ৫ কেজি। তবে তামাক বিক্রি হয় মণ প্রতি ৮ হাজার টাকা দরে।

কথা হয় হলে তামাকচাষী মুকুল ইসলাম জানান, ৩০ শতক জমিতে প্রথমবারের মত তামাক চাষ করেছেন। এই পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অন্য আবাদের চেয়ে লাভজনক ব

বলে তিনি তামাক চাষে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন আগামীতে জমির পরিমান বাড়িয়ে এই তামাক চাষ করবেন।

চাষী শ্রীকান্তের স্ত্রী বলেন, আমরা দুইতিন বার থেকে এই তামাক চাষ করছি। এখানে খরচ ও পরিশ্রম বেশি হলেও লাভ বেশি হয়। তাই আমরা এই আবাদ করছি।

​স্থানীয় রহিম নামে এক কৃষক বলেন, তামাক চাষের পর সেই জমিতে ধান লাগালে আর আগের মতো ফলন পাওয়া যায় না। মাটি শক্ত হয়ে যায়, যেন মাটির ভেতর থেকে সব রস শুষে নিয়েছে এই তামাক।

কৃষিবিদদের মতে, তামাক চাষে মাটির অতি প্রয়োজনীয় মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্ট বা অনুপুষ্টি উপাদানগুলো নিঃশেষ হয়ে যায়, যা পুনরুদ্ধার হতে দীর্ঘ সময় লাগে।

​চিলমারী উপজেলা কৃষি অফিসার কনক চন্দ্র রায় জানান, তামাক চাষীদের যেমন তামাক চাষাবাদের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয় তেমনি তামাকজাত সকল পণ্যই মানব স্বাস্থ্যের নানা রকম ক্ষতি করে থাকে। তাই তামাক চাষে কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের নিরুৎসাহ করে আসছে।তিনি আরও জানান, এবছর উপজেলায় প্রথমবারের মত এক হেক্টরেরও কম জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। আগামী বছর উক্ত চাষীদের সাথে যোগাযোগ করে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করা হবে। প্রয়োজনে রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনায় প্রাপ্ত ফসলের সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে তামাক ফসল প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST