ফরিদপুরের সেই কন্যা এখন জাতীয় রাজনীতির দিকনির্ধারক
ফরিদপুর, বাংলাদেশ — ফরিদপুরের আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেন শামা ওবায়েদ—একজন নারী নেতা যিনি গ্রামের মাটির কাছে লেগে থাকা বাস্তবতা থেকে উঠে এখন জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
শৈশব থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী শামা ওবায়েদ সাধারণ মানুষের কষ্ট ও সমস্যা দেখে গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন। নারীর অধিকার, দারিদ্র্য ও শিক্ষাবঞ্চনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোই তাঁকে রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট করেছে। সমাজ যখন বলেছিল, “মেয়েদের জন্য রাজনীতি নয়,” তখন তিনি বলেছিলেন, “যদি কেউ না দাঁড়ায়, তাহলে পরিবর্তন আসবে কীভাবে?”
তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে মানুষের আস্থা অর্জন করে শামা ওবায়েদ আজকাল জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি নিজেকে প্রাধান্য দিয়ে দেখেন একজন সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে, এবং মনে করেন ক্ষমতা নয়—দায়িত্বই আসল।
সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ী হয়েছেন। এই আসনটি আগে তাঁর পিতা বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ কে এম ওবায়দুর রহমান দখলে রেখেছিলেন এবং শামা ওবায়েদ সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে দেশে ফিরে রাজনৈতিক মাতৃত্বে নেমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছেন।
শামা ওবায়েদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর আন্তর্জাতিক উইং ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজপথের আন্দোলন, দলীয় কর্মসূচি এবং টেলিভিশন টকশোতে যুক্তি ও আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শামা ওবায়েদের এই উত্থান শুধু একটি আসনের জয় নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের সম্ভাবনার নতুন পথ উন্মোচন করছে।