আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ন্যাটো–র পারমাণু রণকৌশল এবং ইউরোপের সামরিক স্বনির্ভরতার প্রশ্ন।বিশেষ করে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন শুরু করেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—ইউরোপ কি নিজস্ব পরমাণু বোমা তৈরির পথে হাঁটছে?
বর্তমানে ন্যাটোর পারমাণু নীতি মূলত ‘ডিটারেন্স’ বা প্রতিরোধ কৌশলের ওপর ভিত্তি করে। এই নীতির কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণু ছাতা, যার আওতায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ নিরাপত্তা সুরক্ষা পায়। ন্যাটোর তথ্যমতে, যতদিন বিশ্বে পারমাণু অস্ত্র থাকবে, ততদিন জোট তাদের পারমাণু সক্ষমতা বজায় রাখবে। তবে এটি নতুন করে অস্ত্র তৈরির ঘোষণার সমান নয়।
ইউরোপে নিজস্ব পারমাণু শক্তিধর দেশ মূলত দুটি—ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য। এ দুটি দেশ স্বতন্ত্রভাবে পারমাণু অস্ত্রের মালিক হলেও তারা ন্যাটোর সামগ্রিক কৌশলের অংশ। অন্যদিকে জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম বা নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো সরাসরি পারমাণু অস্ত্র তৈরি না করলেও ‘নিউক্লিয়ার শেয়ারিং’ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণু অস্ত্র তাদের ভূখণ্ডে মোতায়েন থাকতে পারে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকে মার্কিন নেতৃত্বের হাতে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে নিরাপত্তা স্বায়ত্তশাসন নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে সম্ভাব্য ‘ইউরোপীয় পারমাণু ছাতা’ নিয়ে কথাবার্তা চলছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।ধারণাটি হলো—ন্যাটোর কাঠামোর ভেতর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং নতুন করে পারমাণু বোমা তৈরির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের বর্তমান আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, যৌথ সামরিক সক্ষমতা উন্নত করা এবং কৌশলগত সমন্বয় জোরদার করা। সরাসরি নতুন পারমাণু অস্ত্র তৈরির পদক্ষেপ নিলে তা আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মিলিয়ে বলা যায়, ন্যাটোর ভেতরে নতুন রণকৌশল নিয়ে আলোচনা চললেও ইউরোপ এই মুহূর্তে নিজস্বভাবে নতুন পরমাণু বোমা তৈরি করছে। এমন কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি। বরং জোর দেওয়া হচ্ছে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার ওপর।