1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
গাজা ইস্যুতে জুরিদের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ অরুন্ধতী রায়: বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বর্জনের ঘোষণা - Pundro TV
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন



গাজা ইস্যুতে জুরিদের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ অরুন্ধতী রায়: বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বর্জনের ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গাজায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জুরিবোর্ডের সদস্যদের বিতর্কিত ও উদাসীন মন্তব্যের প্রতিবাদে উৎসব বর্জনের ডাক দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় লেখিকা ও মানবাধিকার কর্মী অরুন্ধতী রায়। গত শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এ প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। অরুন্ধতী রায় স্পষ্ট করেছেন যে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা ‘গণহত্যা’ নিয়ে জুরি সদস্যদের উদাসীনতা এবং ‘শিল্পের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক থাকা উচিত নয়’—এমন অবস্থান তাঁকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র ও মানবাধিকার অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার উৎসবের উদ্বোধনী সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে জুরিবোর্ডের প্রধান ও প্রখ্যাত জার্মান পরিচালক উইম ওয়েন্ডার্সকে গাজা যুদ্ধে জার্মানির একপাক্ষিক সমর্থন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এর এক বিতর্কিত উত্তর দেন। ওয়েন্ডার্স মন্তব্য করেন যে, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সরাসরি রাজনীতি থেকে দূরে থাকা উচিত এবং রাজনীতির মাঠে ঢোকা তাঁদের কাজ নয়। তাঁর সুরেই কথা বলেন জুরিবোর্ডের আরেক সদস্য পোলিশ প্রযোজক ইওয়া পুসজিনস্কা। তিনি ফিলিস্তিন বিষয়ক প্রশ্নটিকে ‘অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে বিশ্বের আরও অনেক স্থানে গণহত্যা ঘটলেও তা নিয়ে সমপর্যায়ের আলোচনা হয় না। জুরিদের এমন অবস্থানকে মানবতার বিরুদ্ধে চলমান অপরাধকে আড়াল করার কৌশল হিসেবে দেখছেন অরুন্ধতী রায়।বিবৃতিতে অরুন্ধতী রায় জুরি সদস্যদের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, যখন চোখের সামনে একটি জাতির ওপর প্রকাশ্য গণহত্যা চালানো হচ্ছে, তখন শিল্পীদের নীরব থাকা বা নিরপেক্ষতার দোহাই দেওয়া কার্যত অপরাধীদের পক্ষ নেওয়ারই নামান্তর। তিনি মনে করেন, শিল্পী ও লেখকদের উচিত তাঁদের মেধা ও শিল্পকে মানুষের অধিকার রক্ষায় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা। অরুন্ধতী রায়ের মতে, গাজায় ইসরায়েলের এই নৃশংসতায় যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো শক্তিশালী দেশগুলো সরাসরি মদদ দিচ্ছে, আর সেই দেশের মাটিতে আয়োজিত উৎসবে শিল্পের অরাজনৈতিক হওয়ার দাবি মূলত এক ধরনের ভণ্ডামি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সময় শিল্পের রাজনৈতিক হওয়াটা কেবল প্রয়োজনই নয়, বরং এটি নৈতিক দায়িত্ব।উল্লেখ্য যে, অরুন্ধতী রায়ের চিত্রনাট্য ও অভিনয়ে ১৯৮৯ সালে নির্মিত কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোজ ওয়ানস’ এবারের বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের সম্মানজনক ‘বার্লিনেল ক্ল্যাসিক’ বিভাগে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। ১২ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত এই উৎসবে সশরীরে উপস্থিত থেকে নিজের ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের নীতিগত অবস্থানে অটল থেকে তিনি উৎসবের সমস্ত কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। অরুন্ধতী রায়ের এই সাহসী পদক্ষেপ গাজা ইস্যুতে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক মহলে চলমান প্রতিবাদের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে। এর ফলে উৎসবের ভাবমূর্তি ও শিল্পীদের দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST