1. pundrotvnews@gmail.com : admin :
যে ভাবে ইউক্রেন ভূখন্ড হারালো? - Pundro TV
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০৩:০৫ অপরাহ্ন

যে ভাবে ইউক্রেন ভূখন্ড হারালো?

পুন্ড্র.টিভি ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২
dvdfgfd

১৯৯১ সালে সোসালিস্ট রাশিয়ার সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেংগে গেলে ইউক্রেন স্বাধীনতা লাভ করে। এরপর থেকে স্বাধীন ইউক্রেন পশ্চিম ইউরোপের সাথে অর্থনৈতিক ও সামরিক জোট গড়বে নাকি রাশিয়ার অরবিটে ঢুকে যাবে তা নিয়ে নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়। ১৯৯৪-২০০৪ সাল পর্যন্ত স্বাধীন ইউক্রেনকে টানা দশ বছর শাসন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট লিওনিদ কুচমা। তিনি ছিলেন রাশিয়ার সাথে সখ্যতা রাখার পক্ষপাতী। তিনি সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয় মেয়াদে আর প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে পারলেন না। অতএব তিনি তাঁর অনুগত প্রধানমন্ত্রী রাশানপন্থী রাজনীতিবিদ ইয়ানুকোভিচকে প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচনে প্রার্থী করলেন। কিন্তু ততোদিনে প্রেসিডেন্ট কুচমা এবং প্রধানমন্ত্রী ইয়ানুকোভিচ দুজনেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। বিশেষ করে একজন সাংবাদিক হত্যার ঘটনা বেশ সমালোচনার ঝড় তুলেছিলো।

dvdfgfd

২০০৪ সালের নির্বাচনে ইয়ানুকোভিচ যখন প্রচারনা শুরু করলেন তখন প্রেসিডেন্ট পুতিন তাকে সমর্থন দেয়ার আকাংখা ব্যক্ত করেন। কেননা ইয়ানুকোভিচের বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা পশ্চিমাপন্থী রাজনীতিবিদ ইয়োশেংকো। নির্বাচনকালীন সময়ে এই ইয়োশেংকোর ওপর প্রাণঘাতী বিষ প্রয়োগ করা হয়। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তখন থেকে ঐ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভীষণ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। যার ফলে ইউক্রেনের ঐ ২০০৪ সালের নির্বাচন আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আর্কষণ করে।

নভেম্বর ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত ঐ নির্বাচনে রাশানপন্থী ইয়ানুকোভিচকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলে পশ্চিমাপন্থী নেতা ইয়োশেংকোর সমর্থনে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। এটাকেই ইউক্রেনের ইতিহাসে অরেঞ্জ রেভুলিউশন বলা হয়। আন্দোলনের মুখে অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনী ফল বাতিল করে দেয়। ২৬ ডিসেম্বর ২০০৪ তারিখে নতুন নির্বাচন হয়। তাতে পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলীয় নেতা ইয়োশেংকো ৫২% ভোট পেয়ে বিজয়ী হন আর সরকার দলীয় রাশানপন্থী ইয়ানুকোভিচ ৪৫% ভোট পেয়ে পরাজিত হন।

উল্লেখ্য যে, ঐ ওরেঞ্জ আন্দোলন যখন চলছিল রাশানপন্থী ইয়ানুকোভিচের সমর্থকরা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দোনবাসকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছিল। কেননা রাশানপন্থী ইয়ানুকোভিচ ছিলেন তাদের এলাকায় ভীষণ জনপ্রিয়।

৫ বছরের মেয়াদ পূরণ হওয়ার পর ২০১০ সালে ইউক্রেনে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় আসলো। ততোদিনে পশ্চিমাপন্থী প্রেসিডেন্ট এবং তার ওরেঞ্জ বিপ্লবের সহযাত্রীরা পরস্পর কাদাছোড়াছুড়ি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদিতে জড়িয়ে পড়েন । অন্যদিকে রাশানপন্থী ঐ ইয়ানুকোভিচ আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী হয়ে পুনরায় নির্বাচনে পদপ্রার্থী হন। এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী হন ওরেঞ্জ বিপ্লবের নেত্রী পশ্চিমাপন্থী মিস ইয়োলিয়া টিমোশেংকো। ফেব্রুয়ারী ২০১০ সালের অনুষ্ঠিত ঐ নির্বাচনে সেবার রাশানপন্থী ঐ ইয়ানুকোভিচ প্রায় ৪৯% ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর মিস টিমোশেংকো প্রায় ৪৬% ভোট পেয়ে হেরে যান। আন্তর্জাতিক মহল নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ হয়েছে বললেও পশ্চিমাপন্থী নেত্রী নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখান করেন এবং নতুন প্রেসিডেন্ট এর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করেন।

ইউক্রেনের নবনির্বাচিত রাশানপন্থী প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতায় এসেই রাশিয়ার সাথে গিভ এন্ড টেক এর একটা চুক্তি করেন। তিনি ক্রিমিয়ার কৃষ্ণসাগরের উপকূলের সেভাস্তোপোল বন্দরে রাশিয়ার নৌঘাটি থাকার মেয়াদ ২০৪২ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করে দেন। এর বিনিময়ে তিনি ইউক্রেনের জন্য রাশিয়া থেকে সস্তায় গ্যাস কেনার চুক্তি করেন। তিনি ক্ষমতায় এসে এটাও বলেছিলেন যে ১৯৩২-৩৩ সালের দুর্ভিক্ষে যে ৫০ লাখ লোক মারা যাবার কথা বলা হয় তার জন্য রাশিয়া দায়ী নয়।

যাহোক, ক্রিমিয়ার নৌঘাটি থাকার মেয়াদ বর্ধিত করায় প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে ব্যাপক হট্টগোল, ডিম নিক্ষেপ এবং স্মোক বোমার ব্যবহার হয়। এরপর প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ বিরোধীদলের ওপর দমন অভিযান চালান। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মিস ইয়োলিয়া টিকোশেংকেকে ৭ বছর কারাদন্ড দেয়া হয়। অন্যান্য বিরোধীদলীয় নেতাদেরকেও জেল দেওয়া হয়।

২০১৩ সালের নভেম্বরে ইউক্রেনের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটা ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিন পূর্বে প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ তা প্রত্যাহার করে নেন। তখন এর প্রতিবাদে ইউক্রেনের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিপুল সংখ্যাক জনতাকে নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনকেই ইউক্রেনের ইতিহাসে ইউরো ময়দান রেভুলিউশন বলা হয়। যাহোক, ব্যাপক আন্দোলনের কারণে ফেব্রুয়ারী ২০১৪ সালে ৭০ জন আন্দোলনকারী নিহত হয়। অবশেষে ইউক্রেনের পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচকে অভিশংসন বা ইমপিচ করে। অতঃপর রাশানপন্থী প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ রাশিয়ায় পালিয়ে যান।

ইউক্রেনে রাশিয়াবান্ধব প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় মিস্টার পুতিন ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। প্রতিশোধ নিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাশান সমর্থিত মুখোশ পরিহিত অবস্থায় একদল বন্দুকধারী ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট ভবন দখল করে নেয়। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ ক্রিমিয়াতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই গণভোটে ৯৫% জনগণ ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সাথে সংযুক্ত করার পক্ষে রায় দেয়। উল্লেখ্য যে ক্রিমিয়ার দুই তৃতীয়ায়শ জনগণ রুশ বংশোদ্ভূত নাগরিক।

ওদিকে এপ্রিল ২০১৪ সালে ইউক্রেনের শিল্প সমৃদ্ধ রাশিয়ার সীমান্ত ঘেষা দনবাস অঞ্চলের লুহানস্ক এবং দোনেস্ক অঞ্চল স্বাধীনতা ঘোষণা করে। উল্লেখ্য যে ঐ দুই অঞ্চলের প্রায় ৩৯% মানুষ রুশ বংশোদ্ভূত নাগরিক। আর সেখানে ইউক্রেনীয় ও রুশ মিলে প্রায় ৭৫% নাগরিক রুশ ভাষায় কথা বলে। যাহোক রাশিয়া ঐ সীমান্তবর্তী দুই অঞ্চলের স্বাধীনতার জন্য সামরিক সমর্থন দিতে থাকে। অর্থাৎ ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের পতনের মাত্র একমাসের মধ্যেই ইউক্রেন তার ভূখন্ড ক্রিমিয়া ও দোনবাস অঞ্চল কার্যত হারিয়ে ফেলে।

২৫ মে ২০১৪ সালের নতুন নির্বাচনে মিস্টার পেট্রো পোরোশেংকো ৫৫% ভোট পেয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি একজন বিরাট শিল্পপতি। তার রোশেন ব্যান্ডের কনফেকশনারি ব্যবসার জন্য লোকে তাকে চকলেট কিং বলে ডাকতেন। পশ্চিমাপন্থী ঐ প্রেসিডেন্ট ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানে ভীষণ আগ্রহী ছিলেন। তিনি নিজের সবকিছু বেঁচে দিয়ে রাজনীতি করার খায়েশ ব্যক্ত করেন। কিন্তু ২০১৬ সালের পানামা পেপার্সে তার নাম ফাঁস হয়ে যায়। দেখা গেলো তিনি ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে বিপুল অর্থ জমা রেখেছেন। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামী।

তিনি দোনবাস অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী কিংবা স্বাধীনতাবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক লড়াই শুরু করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার তদন্ত চলছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে যে- তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে কয়লা ব্যবসা করে দোনবাস অঞ্চলের যোদ্ধাদের অর্থ সহায়তা করেছেন।

সুতরাং পাঁচ বছর পর ২০১৯ সালে যখন আবার নির্বাচন আসলো তখন ঐ নির্বাচনে ঐ পশ্চিমা পন্থী নেতা চকলেট কিং পেট্রো পোরোশেংকোর ভরাডুবি ঘটলো। ৭৩% ভোট পেয়ে ইউক্রেনেরে নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন টেলিভিশন তারকা নব্য রাজনীতিবিদ ভলোদিমির জেলেনস্কি। যিনি আরো বেশি করে পশ্চিম ইউরোপ ও ন্যাটো ঘেষা রাজনীতিবিদ। আর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরবর্তী ঘটনাগুলো এখন আমাদের চোখের সামনেই ভাসছে।

সুপ্রিয় দর্শক! এই ভিডিওর তথ্যগুলো অন্যকে জানাতে শেয়ার দিন। কেননা প্রকৃত তথ্য জানা থাকলে দুনিয়াতে বিবাদ-বিসংবাদ অনেকটাই কমে আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১
Developed By Bongshai IT