1. pundrotvnews@gmail.com : admin :
সামুদ্রিক খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপ সাইপ্রাস - Pundro TV
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০২:০৫ অপরাহ্ন

সামুদ্রিক খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপ সাইপ্রাস

পুন্ড্র.টিভি ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২
dvdfgfd

ভূমধ্যসাগরের একটি দ্বীপ হলো সাইপ্রাস। সামুদ্রিক খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপ হলো সাইপ্রাস । এই দ্বীপ ভূমধ্যসাগরে সামরিক কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

dvdfgfd

আয়তনে ঐ দ্বীপটি নয় হাজার বর্গকিলোমিটারের কিছু বেশি। সাইপ্রাস ভূমধ্যসাগরের তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। এর বর্তমান লোকসংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। খ্রীষ্টান ধর্মের অনুসারী গ্রীক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০% এর বেশি।

আর ইসলাম ধর্মের অনুসারী তুর্ক বা টার্কিস জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৩০% এর কাছাকাছি। সাইপ্রাসের খ্রীষ্টান ধর্মের অনুসারীরা গ্রীক সাইপ্রিওট নামে পরিচিত, অন্যদিকে সাইপ্রাসের ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা টার্কিস বা তুর্কি সাইপ্রিওট নামে পরিচিত। গ্রীসের তুলনায় তুরস্ক থেকে সাইপ্রাসের দূরত্ব অনেক কম। প্রায় অর্ধেকেরও বেশি কাছাকাছি। গ্রীস থেকে সাইপ্রাসের দূরত্ব প্রায় ১২০০ কিঃমিঃ, আর তুরস্ক থেকে সাইপ্রাসের দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিঃমিঃ।

সাইপ্রাস দ্বীপটি তিনশত বছর যাবত তুর্কি ওসমানীয় সালাতানত অর্থাৎ অটোম্যান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিলো। সাইপ্রাসের ওপর তুর্কি শাসনের সেই সময়কালটা ছিলো ১৫৭১ থেকে ১৮৭৮ সাল। ঐ তিনশত বছরে দ্বীপটিতে দলে দলে তুির্ক জনগোষ্ঠী বসতি গড়তে থাকে।

১৮৭৮ সালে কতগুলো চুক্তির মাধ্যমে সাইপ্রাসের ওপর বৃটেন শাসন করার অধিকার লাভ করে। তবে তা ছিলো প্রভিশনাল বৃটিশ এ্যাডমিনসট্রেশন। অর্থাৎ ব্রিটিশ রাজ সাইপ্রাস শাসন করলেও ঐ দেশের ভৌগলিক সার্বভৌমত্বের মালিকানা তুর্কি ওসমানীয় বা অটোমানদের হাতেই ছিলো।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতেই ব্রিটিশরা সাইপ্রাসকে তাদের সাম্রাজ্যের মধ্যে একতরফাভাবে অধিভূক্ত করে নেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুর্কি অটোম্যানরা পরাজিত হলে ১৯২৩ সালে লুজান চুক্তির মাধ্যমে সাইপ্রাস সম্পূর্ণভাবে ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। অর্থাৎ পরাজিত তুর্কি অটোম্যানরা ঐ লুজান চুক্তিতে সাইপ্রাসকে ব্রিটিশদের দখলে থাকার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় |

ব্রিটিশ শাসনের অধীনে সাইপ্রাসে শত শত বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে একত্রে বসবাস করা গ্রীক-তুর্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সুসম্পর্ক বিনষ্ট হতে থাকে। সাইপ্রাসে গ্রীক খ্রিস্টীয় অর্থোডক্স চার্চ বিপ্লবী ইনোসিস আন্দোলন শুরু করে। ঐ ইনোসিস আন্দোলনের লক্ষ্য ছিলো সাইপ্রাসকে গ্রীসের অধীনে সংযুক্ত করা।

১৯৫০ সালের মধ্য ভাগে গ্রীস ঐ ইনোসিস আন্দোলনে সমর্থন দিতে থাকে। উল্লেখ্য যে, ঐ একই কায়দার ইনোসিস আন্দোলনের মাধ্যমে গ্রীস ভূমধ্যসাগরের আরেকটি দ্বীপ ক্রীটকে ১৯১৩ সালে অটোম্যানদের কাছ থেকে নিজেদের করে নিতে পেরেছিলো।

১৯৫৫ সালে ঐ ইনোসিস আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে থাকেন গ্রীক আর্চ বিশপ ম্যাকারিওস। তাঁর সাথে ছিলেন জর্জ গ্রিভাস, যিনি ছিলেন একজন গ্রীক সাইপ্রিওট জেনারেল।

ঐ গ্রীক জেনারেল ছিলেন ইয়োকা নামের একটি সংগঠনের প্রধান নেতা। ইয়োকা হলো ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সাইপ্রিওট ফাইটারস। ঐ ইয়োকা ছিলো একটা আন্ডারগ্রাউন্ড সশস্ত্র সংগঠন। তুরস্ক ঐ সংগঠনকে টেরোরিস্ট গ্রুপ হিসাবে অভিহিত করে। সাইপ্রাসের গ্রীক সাইপ্রিওটদের ইনোসিস আন্দোলনের সাথে এই ইয়োকা সশস্ত্র সংগঠনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যার ফলে সাইপ্রাসের ইনোসিস আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠে।

তাদের আক্রমণে ব্রিটিশ সিটিজেন, সার্ভিসম্যান এবং পুলিশ আহত নিহত হতে থাকে। সেই সাথে অনেক তুর্কি সাইপ্রিওট আহত-নিহত ও গৃহহীন হয়ে পড়ে। অথচ ঐ গ্রীক খ্রীষ্টীয় সাইপ্রিওট জাতিগোষ্ঠী এবং তুর্কি মুসলিম সাইপ্রিওট জাতিগোষ্ঠী শত শত বছর যাবৎ পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করছিল।

সাইপ্রাসের তুর্কি মুসলিম সাইপ্রিওট জনগোষ্ঠী ইনোসিস আন্দোলনের বিরোধিতা করে। অর্থাৎ সাইপ্রাসের তুর্কি জনগোষ্ঠী সাইপ্রাসকে গ্রীসের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করার আন্দেলনকে বিরোধিতা করে। অবশেষে ইনোসিস আন্দোলনকারীরা একসময় বুঝতে পারে সাইপ্রাসকে গ্রীসের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব নয়।

কেননা জাতিসংঘ, বৃটেন এবং তুর্কি সাইপ্রিওটরা এর বিরোধিতা করছে। অতঃপর ১৯৫৯ সালে গ্রীস, বৃটেন, তুরস্ক, গ্রীক সাইপ্রিওট এবং তুর্কি সাইপ্রিওটদের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে আলোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনা থেকে সাইপ্রাসের নতুন একটি সংবিধান রচিত হয়, যেখানে গ্রীক সাইপ্রিওট এবং তুর্কি সাইপ্রিওট- এই উভয় পক্ষের অধিকার নিশ্চিত করা হয়।

জুরিখ এগ্রিমেন্টের আওতায় ১৯৬০ সালে বৃটেন সাইপ্রাসকে স্বাধীনতা প্রদান করে। আর জুরিখ এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী সাইপ্রাসের সরকার পরিচালনার জন্য গ্রীক সাইপ্রিওট এবং তুর্কি সাইপ্রিওটদের সমন্বয়ে জয়েন্ট এ্যাডমিনষ্ট্রেশন গঠন করা হয়।

সেই সাথে সাইপ্রাসের শান্তি, স্থিতিশীলতা রক্ষা করার স্বার্থে ঐ জুরিখ এগ্রিমেন্টে ব্রিটেন, গ্রীস এবং তুরস্ক গ্যারান্টর স্টেট হিসাবে সই করে। যার অন্য এক অর্থ সাইপ্রাসের অভ্যন্তরের গ্রীক ও তুর্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ সংগঠিত হওয়া থেকে বিরত রাখতে ব্রিটেন, গ্রীস এবং তুরস্ক ভূমিকা রাখবে।

১৯৬০ সালে বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সাইপ্রাসের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। স্বাধীনতার চুক্তি অনুযায়ী গ্রীক সাইপ্রিওট এবং তুর্ক সাইপ্রিওট-এই উভয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্য থেকে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট হন খ্রীষ্টান গ্রীক সাইপ্রিওট নেতা আর্চ বিশপ ম্যাকারিওস। আর দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হোন মুসলিম তুর্ক সাইপ্রিওট নেতা ড. ফাজিল কুচোক।

কিন্তু সাইপ্রাসে- গ্রীক সাইপ্রিওট ও তুর্ক সাইপ্রিওটদের- এই শান্তিপূর্ণ কো অপারেশন বেশি দিন স্থায়ী হলো না।

১৯৬৩ সালে গ্রীক সাইপ্রিওটদের উগ্রগোষ্ঠীগুলোর সশস্ত্র আক্রমণে ঐ বাই ন্যাশনাল বা দ্বিজাতির সাইপ্রাস রিপাবলিকের সমাপ্তি ঘটে। তুর্ক সাইপ্রিওটরা জয়েন্ট এ্যাডমিনষ্ট্রেশন থেকে বেরিয়ে গিয়ে তাদের নিজস্ব এ্যাডমিন সেট আপ করে।

এদিকে গ্রীক সাইপ্রিওটদের সশস্ত্র হামলা বাড়তে থাকে। গ্রীক সাইপ্রিওট উগ্রগোষ্ঠীদের হামলায় ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তুর্কি সাইপ্রিওট জাতিগোষ্ঠীর কয়েক হাজার মুসলিম বাস্তুচ্যুত হয়। সহিংসতা ঠেকাতে জাতিসংঘ ১৯৬৪ সালে পিছ কিপিং ফোর্স মোতায়েন করে।

এদিকে, সাইপ্রাসে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও ধাপে ধাপে ১৯৭৪ সালের মধ্যে গ্রীস সাইপ্রাসে প্রায় ২০ হাজার সৈন্য মোতায়েন করে। গ্রীসের লক্ষ্য ছিলো সাইপ্রাসের প্রো ইনোসিস আন্দোলনকে সমর্থন করা, যাতে তা সফল হয়ে সাইপ্রাস গ্রীসের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়।

গ্রীসের সেই লক্ষ্য অর্জনে ১৯৭৪ সালের ১৫ জুলাই প্রো ইনোসিস আন্দোলনের গ্রীসপন্থী নেতা নিকোস স্যামসন সাইপ্রাসে অভ্যুত্থান ঘটান। তিনি সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট আর্চ বিশপ ম্যাকারিওসকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।

সাইপ্রাসে গ্রীস সমর্থিত গ্রীক অর্থোডক্স ন্যাশনালিস্ট গ্রুপের ক্ষমতা দখলে তুর্কি সাইপ্রিওটরা আরো আতংকিত হয়ে পড়ে। তখন গ্যারান্টর স্টেট হিসাবে দায়িত্ব লাভকারী দেশ তুরস্ক সাইপ্রাসে যৌথভাবে হস্তক্ষেপ করতে বৃটেনকে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু বৃটেন তা প্রত্যাখান করে। অতঃপর গ্যারান্টর স্টেট হিসাবে তুরস্ক সাইপ্রাসে একাই পিস অপারেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সাইপ্রাসে বসবাসরত সংখ্যালঘু তুর্কি মুসলিম সাইপ্রিওট জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে এবং সাইপ্রাসকে গ্রীসের অন্তর্ভূক্ত করা থেকে বিরত রাখতে ২০ জুলাই ১৯৭০ সালে সাইপ্রাসে তুরস্ক সামরিক অভিযান শুরু করে। তুরস্কের বিমান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে তুর্কি সৈন্য প্যারাট্রুপিং এর মাধ্যমে সাইপ্রাসের মাটিতে নামতে থাকে।

সাইপ্রাস অভিযানে তুরস্কের ৪০ হাজার সৈন্য অংশ নেয়। অতঃপর মাত্র চার সপ্তাহের সামরিক অভিযানে তুরস্ক সাইপ্রাসে ইনোসিস যোদ্ধা ও গ্রীক সৈন্যদের পরাজিত করে। অতঃপর সাইপ্রাসকে উত্তর অংশ ও দক্ষিণ অংশ- এই দুইভাগে ভাগ করে দেয়। উত্তর অংশকে তুর্ক মুসলিম সাইপ্রিওটদের বসবাসের জন্য ঠিক করে দেয়।

এই লক্ষ্যে তুরস্ক ১৯৮৩ সালে টার্কিস রিপাবলিক ওফ নর্দান সাইপ্রাস বা টিআরএনসি গঠন করে তাকে আলাদা দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। ঐ নর্দান সাইপ্রাস হলো সাইপ্রাসের মূল ভূখন্ডের ৩৬%। অন্যদিকে সাইপ্রাসের দক্ষিণ অংশ গ্রীক সাইপ্রিওটদের জন্য বরাদ্দ করে দেয়।

এই সাইপ্রাস দ্বীপ নিয়ে এখনো গ্রীস তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে প্রায় ৩৫ হাজার তুর্কি সৈন্য অবস্থান করছে। জাতিসংঘ কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই দ্বিখন্ডিত সাইপ্রাসকে স্বীকৃতি দেয়নি। তুরস্ক চাচ্ছে সাইপ্রাসে মুসলিমদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র। অন্যদিকে, পশ্চিম ইউরোপ চাচ্ছে একটি একক সাইপ্রাস রাষ্ট্র। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাইপ্রাসকে একক অখন্ড একটি দেশ হিসাবে তাকে সংগঠনটির সদস্য করে নিয়েছে।

সাইপ্রাসে যে সংঘাতময় পরিস্থিতি দীর্ঘ কয়েক দশক যাবত চলছে, তার একমাত্র সমাধান সেখানে আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠন করা। অর্থাৎ টু স্টেট সল্যুশন। সাইপ্রাস ধরনের জাতিগত সমস্যার সমাধানে সাম্প্রতিককালে এর উদাহরণ আছে।

যেমন- মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে খ্রীষ্টান জনগোষ্ঠীর জন্য পূর্ব তিমুর গঠিত হয়েছে। আবার মুসলিম সুদান থেকে খ্রীষ্টান জনগোষ্ঠীর জন্য দক্ষিণ সুদান গঠিত হয়েছে। সুতরাং চাইলে সাইপ্রাসেও তুর্ক মুসলিমদের জন্য আলাদা দেশ গঠিত হতে পারে। আর তা হলে সাইপ্রাসে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। সেই সাথে গ্রীস-তুরস্ক যুদ্ধের মুখোমুখি অবস্থান থেকে অনেকটাই পিছিয়ে আসবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১
Developed By Bongshai IT