1. pundrotvnews@gmail.com : admin :
লুহানস্কের পতনের পর পুতিনের পরবর্তী লক্ষ্য কী? - Pundro TV
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০২:০৪ অপরাহ্ন

লুহানস্কের পতনের পর পুতিনের পরবর্তী লক্ষ্য কী?

পুন্ড্র.টিভি ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২
dvdfgfd

ইউক্রেনে আরো একবার ঠিক একই ঘটনা ঘটতে দেখা গেল। রাশিয়ার আরো একটি অগ্রাভিযান এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর আরো একটি পশ্চাদপসরণ। এবারের ঘটনাস্থল লিসিচানস্ক।

dvdfgfd

বিবিসির জো ইনউড লিখছেন, এখানে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী লড়াই হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা হলো না।

লুহানস্কের গভর্নর সেরহি হাইদাই বললেন, একটি “কৌশলগত সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে” সে লড়াই এড়ানো হয়েছে।

তার কথায়-কামানের সংখ্যা এবং গোলাবারুদের পরিমাণের দিক থেকে রাশিয়া বিরাট সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। অনেক দূর থেকেই তারা সবকিছু ধ্বংস করে দিতে পারতো – কাজেই এখানে অবস্থান নিয়ে থাকার কোনো মানে হয় না।

লিসিচানস্ক শহর দখল করার যে বর্ণনা রুশ পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে-তার সাথে গভর্নরের কথা মিলে যায়।

তাদের শহরে ঢুকতে কোনো বাধা মোকাবিলা করতে হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে-চেচেন যোদ্ধারা লিসিচানস্কের কেন্দ্রস্থলে নাচছে। উল্লাস তো তারা করবেই। কারণ লিসিচানস্ক দখল করা মানে হচ্ছে লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় পুরোটাই রাশিয়ার দখলে চলে গেল।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন অভিযান বা “বিশেষ সামরিক অপারেশনের” এটা ছিল অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য।

ডনবাস দখলের যুদ্ধ বা সার্বিকভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য এটা কী অর্থ বহন করে?

রাশিয়া চায় পুরো ডনবাস অঞ্চলকে ‘মুক্ত’ করতে

প্রথমে ব্যাপারটা দেখা যাক রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য হচ্ছে ডনবাস অঞ্চল দখল করা-তাদের ভাষায় “মুক্ত করা।”

লিসিচানস্ক দখলের মধ্যে দিয়ে পুরো লুহানস্ক রুশ নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রেসিডেন্ট পুতিন তার কম্যান্ডারদের সর্বোচ্চ ‘রাশিয়ার বীর’ খেতাব দিয়েছেন-যা থেকেও এ বিজয়ের গুরুত্ব বোঝা যায়।

কিন্তু এর পর কী হতে পারে? এখানে বেশ কয়েক রকমের চিত্র অনুমান করা যেতে পারে।
এটা মোটামুটি নিশ্চিত যে রাশিয়া এখন ডনবাসের বাকি অঞ্চল-অর্থাৎ দোনেৎস্কের বাকি অংশ-করায়ত্ত করার জন্য চেষ্টা করবে।

বিশেষ করে তাদের লক্ষ্য হবে স্লোভিয়ানস্ক এবং ক্রামাটরস্ক-ইতোমধ্যেই যেগুলোর ওপর রুশ গোলাবর্ষণ শুরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে স্লোভিয়ানস্কের তাৎপর্য অন্যরকম। কারণ – ২০১৪ সালে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী অভ্যুত্থান এখান থেকেই শুরু হয়েছিল। তবে এ দুটি শহর দখলের পর রাশিয়ার লক্ষ্য কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এটা অনেকটা নির্ভর করে ডনবাস দখলের পর তাদের বাহিনীর অবস্থা কী হয় তার ওপর।

প্রেসিডেন্ট পুতিন পরোক্ষভাবে কথাটা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, যে ইউনিটগুলো লুহানস্কে যুদ্ধ করেছে, এবং সাফল্য ও বিজয় পেয়েছে, তাদের নিশ্চয়ই বিশ্রাম করা উচিত – যাতে তাদের যুদ্ধক্ষমতা বাড়ে।

এই সৈন্যরা যদি তাদের দ্রুতগতির অগ্রাভিযান অব্যাহত রাখে-তাহলে হয়তো তারা ইউক্রেনের পুরো দক্ষিণাংশ দখল করে নেবার প্রয়াস চালিয়ে যেতে পারে। হয়তো দনিপ্রো শহর বা তারও পর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে এই অভিযান।

কিন্তু যদি তারা ক্লান্ত হয়ে গিয়ে থাকে-যেমনটা অনেক বিশ্লেষক বলছেন, পুতিন আভাস দিচ্ছেন-তাহলে এমনটা হতেই পারে যে রাশিয়া হয়তো “বিশেষ সামরিক অভিযানের” সমাপ্তি ঘোষণা করতে পারে।

সেক্ষেত্রে হয়তো রাশিয়া মনে করতে পারে যে-একটি একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলে ইউক্রেনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়বে, এবং ফ্রান্স ও জার্মানির মতো কিছু দেশ তখন শান্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করতে পারে।

ইউক্রেন হয়তো তার পরও যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। কিন্তু নিয়মিত অস্ত্রের সরবরাহ না থাকলে ফ্রন্টলাইনগুলোতে যুদ্ধে একটা অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে-যেমনটা ২০১৪ এবং ২০২২ সালে হয়েছিল। এতে রাশিয়ারই লাভ হবে, কারণ তার প্রতিবেশী দেশে যদি অস্থিরতা এবং তোলপাড় চলতে থাকে তাহলে তার সুবিধা হবে।

রাশিয়ার লক্ষ্য দোনেৎস্কের বাকি অংশ?

সম্প্রতি রুশ সৈন্যরা যেভাবে পূর্ব এবং দক্ষিণ ইউক্রেনের বেশ কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, তা দেখার পর দোনেৎস্কের শহরগুলোতে ইউক্রেনীয় সেনারা আদৌ কতটা শক্ত প্রতিরোধ তৈরি করতে সমর্থ হবে-তা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকেরই সন্দেহ রয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার বর্তমান কৌশল দেখে এটা স্পষ্ট বোঝা যায় যে যুদ্ধের শুরুর দিকের ব্যর্থতা থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছে এবং খুব সাবধানে এগুচ্ছে।

দেখা যাচ্ছে, টার্গেট করা এলাকাগুলোতে তারা প্রথম কয়েকদিন দিন-রাত প্রচণ্ড বোমাবর্ষণ করে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের দিশেহারা করে ফেলছে। তারপর ট্যাংক এবং সাঁজোয়া যান নিয়ে রুশ সৈন্যরা শহরগুলোতে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে।

দোনেৎস্কের শহরগুলোতেও রাশিয়া একইভাবে সফল হবে? ইউক্রেনীয় সৈন্যরাই বা ওইসব শহরে কতটা শক্ত প্রতিরোধ তৈরি করতে পারবে?

যদি তারা তা না পারে এবং পুরো ডনবাস দখলের লক্ষ্য যদি সত্যিই রাশিয়া অর্জন করতে সমর্থ হয়, তাহলে এই যুদ্ধ কোন দিকে গড়াবে-এসব প্রশ্ন নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা শুরু হয়ে গেছে।

ডনবাস দখল করেই কি মি. পুতিন থামবেন?

ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর মারিউপোলের পতনের পর থেকে আজভ সাগরের পুরো উপকুল এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। খেরসন বন্দরসহ পুরো খেরসন এলাকা এবং জাপোরোৎযিয়া এলাকার বিশাল অংশও এখন রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে-যেগুলো অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইউক্রেন এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের অনেকের মধ্যেই এখন এমন ধারণা জোরদার হচ্ছে যে প্রেসিডেন্ট পুতিন যদি সহজে পুরো ডনবাস দখল করতে পারেন-তাহলে তিনি সেখানেই হয়তো থামবেন না।

হয়তো তিনি ইউক্রেনের আরো এলাকা দখলের পথে যাবেন-যাতে ভবিষ্যতে কোন আলোচনা হলে তা তার শর্ত মেনেই হয়।

সম্প্রতি একজন রুশ জেনারেল খোলাখুলিই বলেছেন-মিকোলাইভ এবং ওডেসা হয়ে রোমানিয়ার সীমান্ত পর্যন্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চান তারা, যাতে মলদোভার রুশ অধ্যুষিত ট্রান্সনিস্ট্রিয়ার সাথে রাশিয়ার একটি স্থল করিডোর তৈরি হতে পারে।

তার অর্থ, আজভ সাগরের পর কৃষ্ণসাগর থেকেও ইউক্রেনকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা আঁটছে রাশিয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১
Developed By Bongshai IT