1. pundrotvnews@gmail.com : admin :
বগুড়ায় সয়াবিন তেল সংকট (ভিডিও) - Pundro TV
শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১১:০১ পূর্বাহ্ন

বগুড়ায় সয়াবিন তেল সংকট (ভিডিও)

পুন্ড্র.টিভি ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৯ মে, ২০২২
dvdfgfd

দেশের হাতেগোনা কয়েকটি নামকরা গ্রুপ কোম্পানির কারসাজিতে দেশে সয়াবিন তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। হঠাৎ ওই কোম্পানিগুলো তেল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় তেল নেই বললেই চলে। এমন জোরালো অভিযোগ করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বগুড়াসহ গোটা উত্তরাঞ্চলেও সয়াবিন তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বেশির ভাগ দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না তেল। বাজারগুলোতে ঘনঘন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে। এতে আরো বেশি সংকট তৈরি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। তারা বলেছেন, বগুড়ার খুচরা বাজারে বেশি দামে খোলা সয়াবিন বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বেশ কিছু দোকানে জরিমানা করেছে। এর প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিক্রি বন্ধ রেখেছিলো ব্যবসায়ীরা

dvdfgfd
এতে ভোক্তারা চরম বিপাকে পড়েন। বগুড়া শহরের সবচেয়ে বড় খুচরা ও পাইকারী বাজার রাজাবাজারে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আরো বলছেন, সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশিতে আমাদের খোলা সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে। আমরা কিভাবে ১৮০ টাকায় খোলা তেল বিক্রি করবো? মিলগুলোতে জরিমানা না করে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের কেন জরিমানা করা হচ্ছে? পরে বাজার কমিটির অনুরোধে দুপুরে দোকান খুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বেশির ভাগ দোকানে তেল নেই বলে জানিয়েছেন তারা।ঘটনার বিস্তারিত জানতে সকাল সাড়ে দশটায় বগুড়া শহরের রাজাবাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সয়াবিন তেলের খুচরা বিক্রির সবগুলো দোকানে তালা ঝুলছে। ব্যবসায়ীরা সবাই একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করছেন। ভোক্তরা সয়াবিন তেল কিনতে এসে বিপাকে পড়েছেন। কেউ তেল বিক্রি করছেন না। ক্যামেরার সামনে জরিমানার স্লিপ প্রদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।

রোববার এই বাজারে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সজীব মিয়া বেশ কিছু দোকানে জরিমানা করেছেন। ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন। বেশি দামে তেল ক্রয়ের রিসিভ দেখানো হলেও ওই ম্যাজিস্ট্রেট কোন কথা শোনেননি। ব্যবসায়ীদের তিনি বলেছেন, সরকারি দামে বিক্রি করতে না পারলে দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তার এমন মৌখিক নির্দেশনায় সকাল থেকে দোকনগুলো বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এমন দাবি তাদের।

রাজাবারের ব্যবসায়ী মিঠু পশারী গণমাধ্যমে বলেন, সরকার খোলাবাজারের যে দাম নির্ধারণ করেছে আমরা সেই দামেই বিক্রি করতে চাই। কিন্তু ঘোষণা হওয়ার আগে বেশি দামে কেনা তেল আমরা কিভাবে কম দামে বিক্রি করবো? তাছাড়া সরকার ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথেই তো তেলের চালান বগুড়ায় আসেনি। আমরা চট্টগ্রাম থেকে তেল কিনি। সেই তেল প্রসেস হয়ে আসতে দুই-একদিন সময় লাগে। আমরা তো সেই সময়ও পাইনি। তাছাড়া চট্টগ্রাম থেকে তেল আনতে আমাদের যে পরিবহন খরচ হয় সেটা যদি আমরা তেলের দামে সংযুক্ত না করি তাহলে ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে। আমরা ম্যাজিস্ট্রেটকে মিল থেকে কেনার ম্যামো দেখিয়েছি। তারপরও তিনি আমাদের বেশ কয়েকজনকে জমিমানা করেছেন। মিঠু আরো বলেন, মিল এবং বড় আড়ৎগুলোতে সঠিক দামে বিক্রি করার পরিবেশ তৈরি না করে আমাদের মত ছোট ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়তই এমন হয়রানি করছে প্রশাসন।

কথা হয় রাজাবাজারের মন্ডল ট্রেডার্সের মালিক রুহুল আমিনের সাথে। তিনি বলেন, দেশের নামকরা কিছু গ্রুপ কোম্পানি তেল সরবরাহ কমে দিয়ে বাজারে উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এই কোম্পানিগুলো বাজারে তেল সরবরাহ সীমিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যত নির্যাতন ছোট দোকানদারের উপর। আমরাতো কোথাও কম দামে তেল পাচ্ছি না। আমরা প্রশাসনকে বলেছি আপনারা তেল এনে দেন আমরা পচিশ পয়সা করে লাভ রেখে বিক্রি করবো। কিন্তু প্রশাসনতো সেই উদ্যোগও নেয় না। আমার বগুড়ায় প্রতিদিন তেলের চাহিদা ৫০ টন। আমরা তেল পাচ্ছি ৫ টন। এই বিশাল চাহিদা কিভাবে পূরণ করবে ব্যাবসায়ীরা।

রাজু ট্রেডার্সের মালিক রাজু আহম্মেদ গণমাধ্যমে বলেন, প্রশাসন মাঝেমধ্যেই এসে ক্রয়ের ম্যামো দেখতে চান। আমরাতো বেশির ভাগ তেল কিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। ব্যাংকে টাকা পাঠিয়ে দেই আর মিলাররা আমাদের তেল পাঠিয়ে দেয়। এভাবেই আমরা তেল কিনে থাকি। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বাজারের চাহিদার চেয়ে অনেক কম সরবরাহ। ফলে সবাই হিমশিম খাচ্ছে। সরকার সরবরাহ বৃদ্ধি করুক দেখবেন বাজার একদিনের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাবে।

এদিকে সকাল থেকে দোকান বন্ধ থাকায় তেল কিনতে আসা লোকজন চরম বিপাকে পড়েছেন। কথা হয় চান মিয়া এবং আব্দুল মজিদের সাথে। তারা বলেন, বাড়িতে তেল শেষ। কিনতে এসে দেখি সব দোকান বন্ধ। কেউ তেল বিক্রি করছে না। সরকার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে এজন্য কেউ তেল বিক্রি করছে না। তারা বলেন, সরকার প্রত্যেকটি পণ্যের দাম যে ভাবে বৃদ্ধি করা শুরু করেছে তাতে আমাদের মত নিম্নআয়ের মানুষের জীবন চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। হঠাৎ কেন এভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি করলো সরকার সেই হিসাবে মিলাতে পারছেন না নিম্নআয়ের এসব মানুষ।

রাজাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ গণমাধ্যমে বলেন, তেলের বাজারে এখন অস্থিরতা বিরাজ করছে। ফলে ঘনঘন ম্যাজিস্ট্রেট আসছে। কিছু দোকানদারকে জরিমানাও করছে। এজন্য দোকানদাররা কিছু সময় বন্ধ রেখেছিলো। আসলে ব্যবসায়ীরা না বুঝে বন্ধ রেখেছিলো। এখন সবাই খুলেছে।

জরিমানার বিষয়ে কথা বলতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সজিব মিয়া কতগুলো দোকানে কত টাকা জরিমানা করেছেন সেই তথ্য তাৎক্ষণিক দিতে পারেন নি। তবে একদিন পরে তার অফিসে গিয়ে তথ্য নিতে বলেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১
Developed By Bongshai IT