1. pundrotvnews@gmail.com : admin :
যদি এমন হয়, পুতিন আসলে হিসাবে ভুল করেননি? ভিডিও - Pundro TV
শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ০১:১৯ অপরাহ্ন

যদি এমন হয়, পুতিন আসলে হিসাবে ভুল করেননি? ভিডিও

পুন্ড্র.টিভি ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০২২
dvdfgfd

সাদা চোখে দেখলে এখন মনে হচ্ছে, ইউক্রেইনে সামরিক অভিযানের নামে যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হিসাবে ব্যাপক গোলমাল করে ফেলেছেন।

dvdfgfd

তিনি ভেবেছিলেন রুশ ভাষাভাষী ইউক্রেনীয়রা তার সেনাদের স্বাগত জানাবে। তারা স্বাগত জানায়নি।

পুতিন আশা করেছিলেন, তিনি দ্রুত ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারের পতন ঘটাবেন। তিনি পারেননি।

রাশিয়ার নেতা পরিকল্পনা করেছিলেন, তিনি নেটোকে বিভক্ত করতে পারবেন। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ওই জোট আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, তার অবরোধ দিয়ে রাশিয়ার অর্থনীতিকে বেকায়দায় ফেলা যাবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় রুশ অর্থনীতির ভেঙে পড়ার দশা হয়েছে।

পুতিনের ধারণা ছিল, এই যুদ্ধে চীন পাশে থেকে রাশিয়াকে সাহায্য করবে। উল্টো তারা বাজি পাল্টে ফেলেছে।

তার চাওয়া ছিল, রাশিয়ার আধুনিক সামরিক বাহিনী ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পিষে ফেলুক। অথচ অন্তত কিছু রণাঙ্গনে ইউক্রেনীয়রাই রুশ সেনাদের ধুনে দিয়েছে।

পুতিনে হিসাবে এতএত গড়বড় তার কৌশলগত বিচার বুদ্ধি এবং মানসিক স্থিতিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

যুদ্ধের মধ্যে কে তাকে পরামর্শ দিচ্ছেন? আদৌ কেউ দিচ্ছেন? তিনি কি বাস্তবতা থেকে পুরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন? তিনি কি শারীরিকভাবে অসুস্থ? কিংবা মানসিকভাবে?

ইরাকে আগ্রাসন চালানো বুশ প্রশাসনের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কন্ডোলিৎসা রাইসের মনে হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন তার আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। ‘কিছু একটা সমস্যা’ এখানে আছে।

মারিউপোল ও খারকিভ- রুশ ভাষাভাষী অধ্যুষিত এ দুটি শহরকে ‘ইউক্রেইনের শোষন থেকে মুক্ত’ করার দাবি করছিলেন পুতিন। আর ওই শহর দুটো ঘিরে রুশ বাহিনীর অবরোধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর হাতে পোল্যান্ডের ওয়ারশ শহরের পরিণতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে অনেককে। মনে করিয়ে দিচ্ছিল, পুতিন কী হাল করেছিলেন চেচনিয়ার গ্রোজনির।

কয়েকজন বিশ্লেষক পুতিনকে ফাঁদে পড়া ইঁদুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের ভাষায়, রুশ নেতা আরও বিপদজনক হয়ে উঠেছেন, কারণ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এখন তার হাতে নেই। তারা পুতিনকে ওই ফাঁদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার পক্ষে, যে ফাঁদ তিনি নিজেই রচনা করেছেন।

এরপরও প্রায় সবাই পোল্যান্ডে করা মন্তব্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করেছেন। হতে পারে যে সাদা চোখে যেটা দেখা যাচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে যৌক্তিক। আর সেটা হলে পশ্চিমারা সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে ইউক্রেইনকে সহায়তার যে কৌশল নিয়েছে, সেটাও একধরনের ন্যায্যতা পায়।

এবং এভাবে ভাবলে সহজেই এমন উপসংহারে পৌঁছানো যায় যে পুতিন মুখরক্ষার একটি পথ খুঁজে নিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করবেন। তার মুখরক্ষার পথ হতে পারে ইউক্রেইনের আরও কিছু ভূমি রাশিয়ার দখলে চলে যাওয়া, ইউক্রেইনের নিরপেক্ষ (নেটোতে না যাওয়া) থাকার প্রতিশ্রুতি এবং কিছু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

কিন্তু যদি এমন হয় যে স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধিতে যেটা মনে হচ্ছে, সেটা ভুল? যদি এমন হয় যে পশ্চিমা বিশ্ব আসলে পুতিনের কৌশলের ফাঁদে পড়েছে?

নিউ ইয়র্ক টাইমসের কারলোটা গল তেমন একটি সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন, কারণ প্রথম চেচেন যুদ্ধের সঙ্গে এবারের পরিস্থিতির কিছু মিল তিনি খুঁজে পাচ্ছেন।

১৯৯০ এর দশকের মাঝামাঝি সময় চেচেন যুদ্ধে গ্রোজনি শহরে রাশিয়ার অবরোধের সংবাদ সংগ্রহের অভিজ্ঞতা থেকেই কারলোটা গলের ওই উপলব্ধি হচ্ছে।

ওই যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে উদ্দীপ্ত চেচেন যোদ্ধারা রাশিয়ার একটি সামরিক ব্রিগেড উড়িয়ে দিয়েছিল, স্তম্ভিত করে দিয়েছিল মস্কোকে।

এরপর রুশরা আবার একত্রিত হয় এবং দূর থেকে গ্রোজনিকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়, তাদের গোলন্দাজ ও বিমান বাহিনী ব্যবহার করে।

ইউক্রেইনেও কি রাশিয়া সেই একই খেলাই খেলছে? পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকেরা যখন যুক্তি দিচ্ছেন যে ইউক্রেইনে পুতিন সামরিক শক্তি দিয়ে জিততে পারবেন না, তারা আসলে বোঝাতে চাইছেন যে তিনি পরিচ্ছন্নভাবে জিততে পারবেন না। কিন্তু পুতিন কবে পরিচ্ছন্ন খেলাটা খেলেছেন?

গল লিখেছেন, “পুতিনের খেলার নিয়মে একটি পরবর্তী ধাপ রয়েছে, যা চেচেনরা দেখেছে। রুশ বাহিনী চেচনিয়ার ভূমিতে যত বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, তত তারা বিরুদ্ধ মতকে দমন করে গেছে, গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এবং ‘সংশোধন কেন্দ্রে’ পাঠিয়ে; স্থানীয় সুযোগসন্ধানী এবং বেইমানদের নিজেদের পক্ষে এনে ক্ষমতাশালী করার মাধ্যমে।

“ধরা যাক, পুতিন কখনোই গোটা ইউক্রেইন দখলের পরিকল্পনা করেননি। শুরু থেকেই তার আসল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেইনের জ্বালানি সম্পদ সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল, যেখানে (নরওয়ের পর) ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে।”

এর আগে রাশিয়া ইউক্রেইনের হাত থেকে ক্রিমিয়া দখল করেছে, যেখানে সাগরে বিপুল জ্বালানি ক্ষেত্র রয়েছে। এরপর ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলীয় লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক প্রদেশে হাত দিয়েছে, সেখানেও একটি বড় গ্যাস ক্ষেত্রের অংশ রয়েছে। পুতিন এবার ইউক্রেইনের পুরো উপকূল রেখার নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছেন। এ সব মিলিয়ে দেখলে পুতিনের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়।

তিনি রুশ-ভাষাভাষী বিশ্ব প্রতিষ্ঠার চেয়ে বরং বিশ্বের জ্বালানি খাতে রাশিয়ার কর্তৃত্ব নিশ্চিত করতে বেশি আগ্রহী।

কানাডার জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ডেভিড নাইট লেগ বলেন, “আগ্রাসনের আড়ালে পুতিন আসলে বিপুল সম্পদ ডাকাতি করে নিচ্ছেন।”

ওই অঞ্চলগুলো যদি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তারপর যে অংশে ইউক্রেইন টিকে থাকবে, তা মূলত একটি ভূ-বেষ্টিত দেশ। আর সেই ইউক্রেইনকে পশ্চিমা বিশ্বের দয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে।

পশ্চিমারা হয়ত ইউক্রেইনের শরণার্থীদের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাইরে পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে। একসময় দেখা যাবে ভিক্তর ওরবানের মত কেউ একজন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট হয়ে গেছেন, যিনি দেশ চালাবেন এক নায়কের মত। আর প্রতিবেশী দেশগুলোতে তেমন নেতৃত্বই দেখতে চান পুতিন।

যদি এই বিশ্লেষণ ঠিক হয়, তাহলে পুতিন আসলে হিসাবে গড়বড় করে ফেলা পরাজিত কোনো নেতা নন, যেমনটা সমালোচকরা তাকে দেখতে চান।

এই বিশ্লেষণ ইউক্রেইনের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পুতিনের আক্রমণ চালানোর যৌক্তিকতাও প্রমাণ করে। রাশিয়ার সেনাদের অদক্ষ ভেবে নিলে যতটা আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়, বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ওপর তার চেয়ে অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে তিনি পুতিনের চাহিদার সব দাবি মেনে নেন: দেশের অখণ্ডতায় ছাড় দেন এবং ইউক্রেইনের ‘নিরপেক্ষতার’ নিশ্চয়তা দেন।

গল লিখেছেন, “পশ্চিমা বিশ্বও উত্তেজনা প্রশমনের সুযোগ কাজে লাগাতে চায়, বিশেষ করে যখন আমরা নিজেদের বুঝ দিয়ে ফেলেছি যে পুতিন আসলে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নেতা এবং তিনি দরকার হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

এই যুদ্ধ এরইমধ্যে রাশিয়ার ভেতরে পুতিনের স্বার্থ সিদ্ধি করেছে। পেশাজীবী মধ্যবিত্তদের অনেকেই, যারা আলেক্সেই নাভালনির মত বিরোধী মতের পক্ষে সমর্থন দেন, তারা স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে গেছেন। স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের যেগুলো অবশিষ্ট ছিল, তারা বন্ধ হয়ে গেছে, সম্ভবত চিরতরে।

দ্রুত যুদ্ধ জয় করতে না পেরে সামরিক বাহিনী রাশিয়াকে যতটুকু লজ্জায় ফেলেছে, তাতে ভেতর থেকে একটি বিস্তৃত বিপ্লবের চেষ্টার চেয়ে বাহিনীর উপরিভাগে নেতৃত্বের কিছু পালাবদল দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আর রাশিয়ার নতুন জ্বালানি সম্পদ শেষ পর্যন্ত অবরোধের ধাক্কা সামলে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

পুতিনের কর্মকাণ্ডের এই বিকল্প বিশ্লেষণ হয়তো ভুল হতে পারে। তবে যুদ্ধে, রাজনীতিতে এবং জীবনে, নিজের প্রতিপক্ষকে পাগল এবং বোকা না ভেবে বরং একজন চতুর শেয়াল ভাবাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২১
Developed By Bongshai IT