1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
রাজশাহীতে মারা গেছে ৭৯ শিশু - Pundro TV
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন



রাজশাহীতে মারা গেছে ৭৯ শিশু

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী বিভাগে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মারা গেছে ৭৯ শিশু। দেশের আট বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। আক্রান্তদের অধিকাংশেরই টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অফিস থেকে জানা যায়, মারা যাওয়া ৭৯ শিশুর মধ্যে চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে নওগাঁর একটি, বগুড়ার একটি ও পাবনার দুটি শিশু হামে মারা গেছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৫৫টি শিশু মারা গেছে। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাত, পাবনায় ছয়, বগুড়ায় ছয় ও নওগাঁয় একটি শিশু মারা গেছে।

তবে গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা জানানো হয় ৭৮। এর মধ্যে হামে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখ করা হয় দুজন।

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ছয় মাস বয়সী গৌরী হামের উপসর্গ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হলে নেওয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার জন্য প্রয়োজন ছিল আইসিইউ বেড। কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। গত ১৮ এপ্রিল গৌরী মারা যায়। মৃত্যুর পরদিন শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার সময় আইসিইউ থেকে ফোন করে তার স্বজনদের জানানো হয়, গৌরীর আইসিইউ সিরিয়াল এসেছে। এই ফোন তার মা-বাবার কান্না আরও বাড়িয়ে দেয়। গৌরীর বাবা সোহাগ কুমার বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়স হয়েছিল ছয় মাস সাত দিন। তাকে টিকা দেওয়া হয়নি। ভিটামিন এ ক্যাপসুলও খাওয়ানো হয়নি।’

সোহাগ জানান, গৌরী অসুস্থ হলে ১৬ এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। এর পর হামের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে ভিন্ন একটি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানে ডাক্তার তাকে জরুরিভাবে আইসিইউতে নিতে বলেন। আইসিইউতে গেলে জানানো হয়, গৌরীর সিরিয়াল ২৮ নম্বর। আরও ১০ জনের পরে বেড পাবে। ভর্তির দুদিন পর গৌরী মারা যায়। শিশুটির মা বন্দনা রানী বলেন, ‘হাসপাতালে আইসিইউ বেড পেলে মেয়েটাকে বাঁচানোর একটা সুযোগ হতো। মেয়েটা প্রচণ্ড কষ্ট পেয়ে মারা গেল।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সর্বশেষ ২৪ এপ্রিল রাইসা নামে পাঁচ মাসের এক শিশু হামের উপসর্গে মারা গেছে। ১৫ এপ্রিল রাতে মারা যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের শিশু লামিয়া। তার বাবা রাজমিস্ত্রি মোহাম্মদ রনি বলেন, ‘লামিয়ার বয়স ছিল ১৫ মাস। তার জন্য হামের টিকা আগে পাওয়া যায়নি। তার ঠান্ডা বুকে জমে যায়। তখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে চার দিন ভর্তি ছিল। এরপর ডাক্তার বললেন, সে ভালো হয়ে গেছে। বাড়ি নিয়ে আসার দুদিন পর হামের টিকা দিলাম। তখন শরীরে হাম বের হয়। মুখে ঘা হয়ে যায়। অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাওয়ায় আবারও হাসপাতালে নিয়েছিলাম।’

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, যারা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে, তাদের বেশির ভাগের বয়স ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই অনেকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। টিকার দেওয়ার বয়স আগে ছিল ৯ মাস। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে বিশেষ ব্যবস্থায় ছয় মাস করা হয়। টিকার কার্যক্রম জোরদারভাবে চলছে। পাশাপাশি ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

রামেক হাসপাতালে ভিড়
রাজশাহী বিভাগ ছাড়াও খুলনার কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার রোগীরা আসছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ২০০ বেডের। তবে এখানে প্রতিদিন রোগী থাকছে ৭০০ থেকে ৮০০ জন। এক বেডেই থাকছে একাধিক শিশু। তাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার ও নার্সরা।

শনিবার রামেক হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছে ৯ জন। ছাড়পত্র পেয়েছে ১০ জন। ভর্তি ছিল ৯৯ শিশু। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৯৬৮ শিশু।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে চার হাজার ৬৪১ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। সুস্থ হয়েছে তিন হাজার ৮৭১ জন। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৫৭৬ জনের। মোট মৃত্যু হয়েছে ৭৮ জনের। এর মধ্যে উপসর্গ নিয়ে ৭৪, শনাক্ত হয়ে মারা গেছে চারজন। চিকিৎসকরা বলছেন, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে কারও হামের টিকা দেওয়া ছিল না। তারা পুষ্টিহীনতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিল। হাম হওয়ার পর জটিলতায় শিশু মারা যাচ্ছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘শিশুদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। বুকের দুধের পাশাপাশি শিশুর ছয় মাস হলে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল দিতে হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST