1. shahajahanbabu@gmail.com : admin :
১৭০ থেকে ২৩০ টাকা লোকসানে ধান বিক্রি করছেন কৃষক - Pundro TV
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন



১৭০ থেকে ২৩০ টাকা লোকসানে ধান বিক্রি করছেন কৃষক

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বোরোর ভালো ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, বিঘায় ২২ থেকে ২৩ মণ ধান মিলবে। তবে সরকারিভাবে কেনা শুরু না হওয়ায় কৃষকরা ধানের উপযুক্ত দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। খুচরা পাইকাররা গ্রাম ঘুরে ঘুরে ধান কিনছেন কম দামে। বর্তমানে প্রতিমণ মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৪০ থেকে ৮৭০ টাকায়।

চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ৯৮০ টাকায়। তাতে উঠছে না উৎপাদন খরচ। প্রতিমণে ১৭০ থেকে ২৩০ টাকা লোকসান গুনছেন কৃষকরা। অন্যদিকে, এই অবস্থায় ধান কিনে মজুত বাড়াচ্ছেন বড় মহাজনরা।

উপজেলার কাজীবাড়ী সন্তোলা গ্রামের কৃষক চান মিয়া বলেন, মৌসুমের শুরুতে বোরো ধানের বীজ কিনতে হয়েছে উচ্চ মূল্যে। এর সঙ্গে বীজ বপন, হাল-চাষ, চারা রোপণ, সার-কীটনাশক কেনা, আগাছা পরিষ্কার, সেচ বিল ও দিনমজুর খরচ মিটিয়ে প্রতিমণ মোটা ধান উৎপাদনে এক হাজার ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। চিকন ধান উৎপাদনে খরচ আরও বেশি।

ধান কেটে এখন বিক্রি করতে হচ্ছে লোকসান দিয়ে। পাইকাররা বাড়ি থেকে কম দামে ধান কিনে নিয়ে যাচ্ছেন মহাজনের গুদামে। তাই সরকার দ্রুত উদ্যোগ না নিলে কৃষকদের লোকসানের বোঝা আরও ভারী হবে।

জয়েনপুর গ্রামের কৃষক ফুল মিয়া বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পর রোদ ওঠায় এখন ধান শুকিয়েছে। অথচ পাইকাররা কেনার সময় ‘কাঁচা’ বলে প্রতিমণে দেড় থেকে দুই কেজি ধান বেশি নিচ্ছেন। এতে কৃষকের আরও বেশি লোকসান হচ্ছে। তিনি বলেন, যেসব কৃষক এখনই ধান বিক্রি করছেন তাদের প্রতিমণে দেড়শ থেকে দুশ টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে। এরপরও বিক্রি করতে হচ্ছে। ধান কাটা-মাড়াই শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া ও সংসারের খরচ জোগাতে লোকসান দিয়েই ধান বিক্রি করছেন অধিকাংশ কৃষক। মৌসুম সময়ে কম দামে ধান কেনার সুযোগ নিচ্ছেন বড় মহাজনরা।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১৫ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ৭ হাজার ৩৯৫ হেক্টর, উচ্চ ফলনশীল জাতের ৮ হাজার ১৩৮ হেক্টর আর স্থানীয় জাতের ১১৭ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৯৫ হাজার ২৯৪ টন ধান। উৎপাদনের তুলনায় সরকারিভাবে ধান ক্রয় অতি সামান্য। খাদ্য বিভাগ জানায়, এখানে ধান কেনা হবে এক হাজার ১৪৬ টন। আর সেদ্ধ চাল কেনা হবে ৬ হাজার ১৭৫ টন। এর সঙ্গে আতপ চাল কেনা হবে ১৮৮ টন।

সাদুল্লাপুর উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রব সরকার। তিনি বলেন, কৃষকরা সরাসরি সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। কিন্তু বরাদ্দ কম থাকায় সব কৃষকের পক্ষে খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করা সম্ভব হবে না। এজন্য সরকারিভাবে খাদ্যগুদাম বাড়ানোর পাশাপাশি কেনার বরাদ্দ বাড়ালে কৃষকরা উপকৃত হবেন।

তিনি আরও বলেন, এভাবে চলতে থাকলে মাঠের ধান কম দামে কেনার সুযোগ নেবেন ফড়িয়া আর পাইকাররা। তাতে লোকসানে পড়বেন প্রান্তিক কৃষক। লাভবান হবেন মহাজনরা।

সরকারিভাবে প্রতিমণ ধানের দাম এক হাজার ৪৪০ টাকা। প্রতিমণ চালের দাম এক হাজার ৯৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আফান আলী। তিনি জানান, সরকার যেভাবে বরাদ্দ দেয়, সেভাবেই ক্রয় অভিযান পরিচালনা করা হয়। বরাদ্দ কম-বেশির সিদ্ধান্ত আসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে। তিনি জানান, কৃষি বিভাগের সহায়তায় প্রাপ্ত কৃষকদের তালিকা ধরে ১৫ মে থেকে এখানে ধান-চাল কেনা শুরু হতে পারে।

প্রতিজন কৃষক দিতে পারবেন সর্বোচ্চ ৭৫ মণ (৩ টন) ধান। এ হিসেবে এখানকার দুটি সরকারি খাদ্যগুদামে সর্বোচ্চ ৩৮২ জন কৃষক ধান বিক্রি করতে পারবেন। আর আগে থেকে চুক্তিবদ্ধ মিল-চাতাল মালিকরা দেবেন নতুন চাল।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ উপজেলায় বোরো চাষি প্রায় ৬০ হাজার। সেখান থেকে লটারিতে নির্বাচিত মাত্র ৩৮২ জন সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাবেন। অন্য কৃষকরা যাবেন খোলাবাজারে। তাই কম দামেই ধান বিক্রি করছেন হাজার হাজার কৃষক।

ইসলামপুর গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে আরও আগে ধান ক্রয় অভিযান শুরু করলে ভালো হতো। কারণ, সরকারি মূল্যে ধান বিক্রি করলে কৃষকরা লাভবান হন। বিলম্বিত হলে সেই লাভের সুবিধা সব কৃষকের ভাগ্যে জুটবে না। এ বছর আবার কৃষকদের থেকে ধান ক্রয় কমিয়ে মিল-চাতাল মালিকদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য জানান,  সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির জন্য অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করবেন কৃষকরা। এজন্য কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে কাজ করছেন।

খুচরা পাইকার সাহেব উদ্দিন জানান, গ্রাম ঘুরে তিনি এখন পর্যন্ত হাইব্রিড জাতের প্রতিমণ মোটা ধান কিনছেন ৮৪০ থেকে ৮৭০ টাকায়। চিকন ধান কিনছেন ৯৫০ থেকে ৯৮০ টাকায়। তিনি বলেন, সব কৃষক সরকারি খাদ্যগুদামে বিক্রির সুযোগ না পাওয়ায় গ্রামে এখন কম দামে ধান পাওয়া যায়।  তিনি জানান, এভাবে ধান কিনে কিছুটা লাভে বিক্রি করেন মহাজনের কাছে। তারা ধানের মজুত গড়েন গুদামে। পরে দাম বাড়লে ছাড়বেন বাজারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২২
Developed By ATOZ IT HOST